Advertisement

বার বার গর্ভপাতের কারণ কী?

Publisher

বার বার গর্ভপাত (Recurrent Miscarriage) সাধারণত তিন বা তার বেশি পরপর গর্ভপাতকে বোঝায়। এটি অনেক কারণে হতে পারে, যার মধ্যে জেনেটিক, হরমোনাল, শারীরিক, সংক্রমণ এবং জীবনধারা সংক্রান্ত কারণ উল্লেখযোগ্য।


🎯 বার বার গর্ভপাতের প্রধান কারণসমূহ:

১. জেনেটিক বা ক্রোমোজোমাল সমস্যা

🔹 প্রায় ৫০-৬০% প্রাথমিক গর্ভপাত ক্রোমোজোমাল ত্রুটির কারণে ঘটে।
🔹 ভ্রূণের অস্বাভাবিক জেনেটিক গঠন থাকলে শরীর স্বয়ংক্রিয়ভাবে গর্ভপাত ঘটাতে পারে।
🔹 এটি সাধারণত বাবা-মায়ের ডিএনএ-এর সমস্যার কারণে হয়।

২. হরমোনাল সমস্যা

🔹 থাইরয়েড হরমোনের ভারসাম্যহীনতা (হাইপোথাইরয়েডিজম বা হাইপারথাইরয়েডিজম)
🔹 প্রোজেস্টেরন কমে যাওয়া – এটি জরায়ুর আস্তরণকে ভ্রূণের জন্য উপযুক্ত রাখতে সাহায্য করে।
🔹 পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম (PCOS) – এটি ইনসুলিনের ভারসাম্যহীনতা তৈরি করে, যা গর্ভপাতের ঝুঁকি বাড়ায়।

৩. জরায়ুর গঠনগত সমস্যা বা দুর্বলতা

🔹 জরায়ুর গঠনে কোনো ত্রুটি থাকলে বা জরায়ু খুব ছোট হলে গর্ভধারণ ধরে রাখা কঠিন হতে পারে।
🔹 সারভিক্যাল ইনসাফিসিয়েন্সি – জরায়ুর মুখ (Cervix) দুর্বল হলে মাঝপথেই গর্ভপাত হয়ে যেতে পারে।
🔹 জরায়ুতে ফাইব্রয়েড বা পলিপ থাকলে ভ্রূণের বৃদ্ধিতে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।

৪. সংক্রমণ (Infection)

🔹 কিছু ব্যাকটেরিয়া বা ভাইরাস সংক্রমণ যেমন টক্সোপ্লাজমোসিস, সাইটোমেগালোভাইরাস (CMV), হারপিস, রুবেলা, লিস্টেরিওসিস গর্ভপাতের কারণ হতে পারে।
🔹 ব্যাকটেরিয়াল ভ্যাজিনোসিস (BV) জরায়ুর পরিবেশের ক্ষতি করতে পারে।

৫. অটোইমিউন বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার সমস্যা

🔹 অ্যান্টিফসফোলিপিড সিনড্রোম (APS) – এটি এমন একটি রোগ যেখানে শরীর নিজের কোষের বিরুদ্ধে কাজ করে এবং গর্ভধারণ ধরে রাখতে সমস্যা হয়।
🔹 লুপাস বা অন্যান্য অটোইমিউন রোগ গর্ভপাতের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

৬. রক্ত জমাট বাঁধার সমস্যা (Thrombophilia)

🔹 কিছু মহিলার রক্ত সহজেই জমাট বেঁধে যায়, যা প্লাসেন্টায় রক্ত সরবরাহ কমিয়ে গর্ভপাত ঘটাতে পারে।

৭. জীবনধারা ও বাহ্যিক কারণ

🔹 অতিরিক্ত ধূমপান, অ্যালকোহল, ক্যাফেইন গ্রহণ গর্ভপাতের ঝুঁকি বাড়ায়।
🔹 ওজনজনিত সমস্যা – অতিরিক্ত ওজন বা কম ওজন হলে গর্ভধারণে জটিলতা দেখা দিতে পারে।
🔹 চরম মানসিক চাপ বা দুশ্চিন্তা গর্ভপাতের কারণ হতে পারে।

৮. বয়সজনিত কারণ

🔹 ৩৫ বছরের বেশি বয়সী নারীদের ক্ষেত্রে গর্ভপাতের হার বেশি হয়ে থাকে।
🔹 বয়স বাড়ার সাথে ডিম্বাণুর গুণগতমান কমে যায় এবং ক্রোমোজোমাল সমস্যা বেড়ে যায়।


🎯 গর্ভপাত প্রতিরোধে করণীয়:

ডাক্তারি পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষা (ক্রোমোজোমাল ও হরমোনাল চেকআপ)
স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন (সুষম খাদ্য, ব্যায়াম, পর্যাপ্ত বিশ্রাম)
ধূমপান ও অ্যালকোহল পরিহার করা
থাইরয়েড ও PCOS-এর চিকিৎসা নেওয়া
স্ট্রেস কমানো ও মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন নেওয়া

আপনি যদি বারবার গর্ভপাতের সমস্যায় পড়েন, তাহলে অবশ্যই একজন বিশেষজ্ঞ স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। 😊💙