Advertisement

ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়ার কারণ, চিকিৎসা ও প্রতিকার

Publisher

ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া (Frequent Urination) একটি সাধারণ সমস্যা হলেও এটি দীর্ঘস্থায়ী হলে দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। অনেক সময় ওষুধ খাওয়ার পরেও এটি ঠিক না হলে, সমস্যার মূল কারণ খুঁজে বের করা জরুরি। চলুন জেনে নেওয়া যাক এর সম্ভাব্য কারণ, চিকিৎসা এবং প্রতিকার। (আরও)

ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়ার সম্ভাব্য কারণ

১. ডায়াবেটিস

✅ রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বেশি থাকলে কিডনি অতিরিক্ত গ্লুকোজ বের করতে চায়, ফলে ঘন ঘন প্রস্রাব হয়। ✅ সাধারণত ডায়াবেটিস হলে প্রচুর পিপাসা লাগে, দুর্বলতা অনুভূত হয় এবং ওজন কমে যেতে পারে

২. মূত্রনালির সংক্রমণ (UTI - Urinary Tract Infection)

✅ ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণের কারণে মূত্রনালীতে প্রদাহ হলে ঘন ঘন প্রস্রাবের অনুভূতি হয়। ✅ প্রস্রাবের সাথে জ্বালাপোড়া, ব্যথা বা দুর্গন্ধযুক্ত প্রস্রাব হতে পারে।

৩. প্রোস্টেটের সমস্যা (পুরুষদের জন্য)

✅ প্রোস্টেট গ্রন্থি বড় হলে মূত্রথলির উপর চাপ পড়ে, ফলে প্রস্রাবের চাপ বেশি অনুভূত হয়। ✅ অনেক সময় প্রস্রাব আটকে যাওয়া বা ধীরগতির হওয়ার সমস্যাও দেখা দিতে পারে।

৪. অতিরিক্ত পানি বা ক্যাফেইন গ্রহণ

✅ বেশি পরিমাণে পানি, চা, কফি বা অ্যালকোহল গ্রহণ করলে প্রস্রাবের পরিমাণ বেড়ে যায়। ✅ বিশেষত রাতে ঘন ঘন প্রস্রাব হতে পারে

৫. ওভারঅ্যাকটিভ ব্লাডার (Overactive Bladder - OAB)

✅ মূত্রথলির পেশিগুলো স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি সক্রিয় থাকলে অল্প পরিমাণ প্রস্রাব হলেও বারবার প্রস্রাবের বেগ আসে। ✅ বিশেষ করে রাতে বেশি প্রস্রাবের বেগ অনুভূত হয়।

৬. কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

ডায়ুরেটিক (Diuretics) জাতীয় ওষুধ কিডনির মাধ্যমে বেশি তরল বের করে দেয়, ফলে প্রস্রাবের চাপ বাড়ে। ✅ উচ্চ রক্তচাপের ওষুধেও অনেকে প্রস্রাব বেশি হওয়ার সমস্যা অনুভব করতে পারেন।

৭. মানসিক চাপ ও দুশ্চিন্তা

✅ অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা বা স্ট্রেস থাকলে স্নায়ুতন্ত্র সক্রিয় হয়ে মূত্রথলির কার্যকারিতা বাড়িয়ে দেয়। ✅ অনেকে ঘন ঘন প্রস্রাবের অনুভূতি পেলেও প্রকৃতপক্ষে প্রস্রাবের পরিমাণ খুব কম হয়।

চিকিৎসা ও প্রতিকার

ডাক্তার দেখান – দীর্ঘদিন ধরে ঘন ঘন প্রস্রাব হলে ইউরোলজিস্ট বা চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। ✔ ডায়াবেটিস পরীক্ষা করুন – রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা পরীক্ষা করুন, যদি ডায়াবেটিস ধরা পড়ে তাহলে নিয়মিত ওষুধ গ্রহণ ও খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন করুন। ✔ ইউরিন টেস্ট করান – সংক্রমণ (UTI) হলে চিকিৎসকের পরামর্শে অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণ করুন। ✔ প্রস্রাব ধরে রাখার অনুশীলন করুন – কিছুক্ষণ প্রস্রাব চেপে রাখার অভ্যাস করলে মূত্রথলির ক্ষমতা বাড়ে। ✔ ক্যাফেইন ও অ্যালকোহল কমান – চা, কফি, সফট ড্রিংকস, অ্যালকোহল কমিয়ে ফেলুন। ✔ রাতে পানি কম পান করুন – বিশেষ করে রাতে ঘন ঘন প্রস্রাব হলে ঘুমানোর অন্তত ২ ঘণ্টা আগে পানি পান বন্ধ করুন। ✔ কেগেল ব্যায়াম করুন – এটি মূত্রথলির পেশি শক্তিশালী করে ও প্রস্রাব নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। ✔ স্ট্রেস কমান – মানসিক চাপ কমানোর জন্য মেডিটেশন, ব্যায়াম ও পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিন।

ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া একটি বিরক্তিকর সমস্যা, তবে এটি সাধারণত চিকিৎসা ও জীবনযাত্রার পরিবর্তনের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। যদি ওষুধ খাওয়ার পরেও সমস্যা ঠিক না হয়, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। সুস্থ জীবনযাপনের জন্য স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত ব্যায়াম ও মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।